Sunday, October 27, 2019

মানিকের ভয়ানক রাত্রির কথা
মানিক নামে কোন এক গ্রামে ডানপিটে, চঞ্চল, সাহসী ছেলে ছিল। জমিদার বাড়ীর একমাত্র পুত্র সন্তান হওয়ার ফলে পরিবার থেকে তাকে তেমন কোন শাসন করা হতো না। মানিকের যখন যা খুশি তাই করত। তিন গ্রাম পরে যাত্রা শুরু হয়েছে। মানিক সকাল থেকে সেই যাত্রা দেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে এবং তার ঘোড়া নিয়ে বেরিয়ে পড়ল যাত্রার উদ্দেশ্যে। যথা নিয়মে যাত্রা শেষ করে এখন বাড়ী ফেরার পালা। রাত প্রায় ১২ টা। সে তার ঘোড়া ছুটিয়ে ফেরির কাছে চলে আসল। ফেরিতে যখন উটল তখন ফেরিতে থাকা লোকটি বলল এত রাতে যাচ্ছেন আপনার ভয় লাগেনা? এখানকার জায়গাতো ভাল না। মানিক হেসে বলল আমাকে দেখে চোর, ডাকাত ভয় পায়। ফেরির লোকটি বলল আমি যাদের কথা বলছি তারা মানুষ না জ্বীন। মানিক হেসে বলল আমি এসব বিশ্বাস করি না। ফেরির লোকটি বলল ভাই আপনি সোজা রাস্তায় যাবেন ভুলেও বামের রাস্তাতে যাবেন না। সেই রাস্তাটি খুবই খারাপ। মানিক তার কথাতে কোন প্রকার গুরুত্ব দিল না ফেরি পার হয়ে ঘোড়া ছুটিয়ে চলল। দুই রাস্তার সামনে এসে মানিক দেখল তার ঘোরা আর পা চালাচ্ছে না, একদম থেমে গেল। সে ভাবল সারাদিন পরিশ্রম করাতে এরকম হয়েছে হয়ত, তাছাড়া যাত্রা দেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকাতে ঘোড়াকে কিছুই খাওয়ানো হয়নি। রাতের বেলাতে কি আর করা যায়। দেখি একটু পানির ব্যবস্থা করা যায় কিনা। বামের রাস্তার শেষে দেখা যায় একটু আলো জ্বলছে। মানিক সেখানে গেল পানির আশায়। দেখল একটি ছোট বাড়ী সেখানে একটি মহিলা রান্না করছে, উল্টো দিকে ফিরে। মানিক বলল আমাকে একটু পানি দিতে পারেন। মহিলার কোন প্রতিক্রিয়া নেই। মানিক আবারো পানি চাইল। এর পর তৃতীয় বার মানিক জোরে বলে উটল কি ব্যপারে কথা কানে যায় না! এবার মহিলাটি ঘুরে তাকাল মানিকের দিকে, মানিক তার জীবনের প্রথম ভয়টি পেল তখন, সে দেখল গোমটা পরা মহিলাটির দুই চোখ নেই, চোখের জায়গায় দুটি গরত। মানিক পিছন ফিরে বড় রাস্তার দিকে হাঁটতে শুরু করল আর ফেরির লোকটি কথা মনে পড়ল, তিনি তাকে বামের রাস্তাতে যেতে বারণ করেছিল। বড় রাস্তার উপর এসে নিজেকে খুবই দুরবল ভাবতে লাগল আর ভয় তাকে পেয়েই বসেছে। ঘোড়া নিয়ে আস্তে, আস্তে সোজা হাটছিল মানিক। ঠিক তখনই সে দেখতে পেল সাদা পায়জামা আর পাঞ্জাবি, টুপি পড়া চারজন ব্যক্তি তার দিকে আসছে। মানিক খুব ভয় পাচ্ছে উনাদের দেখে। লোক চারজন মানিক এর কাছে এসে একজন সালাম দিয়ে বলল আরে মানিক ভাই কেমন আছেন? এত রাতে কোথা যাচ্ছেন। উত্তরে মানিক বলল আমিতো আপনাদের চিনি, না আর কখনও তো দেখিনি। প্রতি উত্তরে লোকটি বলল আমি তো আপনাকে খুব ভাল করেই চিনি, আপনি সরকার বাড়ীর ছেলে মালিক ভাই না। তখন মানিকের ভয় কাটল, বলল হ্যাঁ। তাদের মধ্যে একজন বলল বাড়ী যাবেন , আসুন আমার সাথে। বলে নিয়ে আসল একটি গাছের নিচে। বলল আপনি ঘোড়া বেঁধে গাছের নিচে বিশ্রাম নেন, আমি ফিরে না আসা সময় আপনি এখানেই থাকেন বলে লোকটি তার কাছ থেকে বিদায় নিল। গাছের নিচে বসে মানিক ঘুমিয়ে পড়ল। ফজরের নামাজ শেষে মানিকের ঘুম ভাঙ্গল।  সে দেখল সে একটি কবরস্থানে বসে আছে। কাছের মস্জিদের ঈমাম হুজুর মানিককে জিজ্ঞাস করল অনেকক্ষণ যাবৎ দেখছি, আপনি এখানে কি করছেন। মানিক তার সাথে যা যা হলো সব হুজুরকে বলল। হুজুর বলল প্রাণে বেঁচে গেছ, তুমি প্রথমে যে মহিলাকে দেখেছ সে হচ্ছে খারাপ জ্বীন এবং পরের চার জন তারা হচ্ছে ভাল জ্বীন তাই তোমাকে নিরাপদে রেখে গেছেন।

No comments:

Post a Comment